আমাদের সমগ্র মনুষ্যজাতির পরামর্শদাতা পরম পূজনীয় দর্শনযোগী ভীমানান্দ (শ্রী ভীমচন্দ্র গুড়ে) মহারাজের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন

ক্রিয়াযোগ প্রসঙ্গে দর্শনযোগী

যুক্তি তর্ক প্রমাণের বাইরে থাকা নির্গুণ নিরাকার ঈশ্বরকে জানিতে হইলে ও তাহার সহিত (মধ্যে) বিলীন হইতে হইলে যে পথের মধ্য দিয়া অগ্রসর হইতে হয় তাহাকেই ক্রিয়াযোগ বলা হয় ৷ 

 

ক্রিয়াযোগ হইল সাধন ভজনের এক বিশেষ সোপান ৷ 

 

এই যোগের কথা শ্রবণে বা বই পড়ে কিছুই করা যায় না, হাতে - কলামে অভ্যাস করতেই হয়৷ তার জন্য চাই উপযুক্ত গুরু ৷ গুরুর সান্নিধ্যে থাকিতে হইবে ৷ নতুবা কোন কারণে ভুল হইলে হিতে বিপরীত হইতে পারে ৷ প্রকৃত গুরুর কাছে থাকিলে ইহা ভুল হইবার নয় ৷

 

এই ক্রিয়াযোগ মানুষকে মহান যোগী করিয়া তুলে, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বার বার বলিয়াছেন "হে অর্জুন তুমি যোগী হও, পূর্ণ যোগী হইলে তোমার ভিতর সকল যোগের সমাবেশ হইবে ৷ তখন তোমাতে আমাতে ভেদাভেদ দেখিতে পাইবে না ৷" এইরূপ অবস্থায় আসিতে হইলে যে সোপান অবলম্বন করিতে হয় তাহাই হইল মূলত: ক্রিয়াযোগ৷

দর্শনযোগীর শিক্ষালাভ--ক্রিয়াযোগী রূপে

১) আমাদের ভুলের কারণ পৃথিবীর জল, মাটি ও বাতাসের অনুকরণে রক্ত, মাংস ও অস্থি (তন্ত্রশাস্ত্র মতে শিরদাঁড়ার সংলগ্ন তিনটি নাড়ীর ভেতরকার প্রবাহিত প্রাণবায়ু) সহযোগে গঠিত এই মানাব-দেহের কাঠামোগত গুণ ৷

 

২) আমরা সবাই যে বদ্ধ ধারণায় চলেছি বা আবদ্ধ আছি তাহার কারণ পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি ৷

 

৩) সবার মূলে জলীয় বাষ্প পূর্ণ বাতাস যা মানব শরীরে শ্বাসের মধ্যে ধরা রহিয়াছে , ইহা কোন সময়েই আমাদেরকে ঈশ্বরোপলব্ধি ও সত্যের কাছাকাছি আসিতে দিতে চায় না, ব্যূহ সৃষ্টি করে আড়াল করে রেখেছে, সমষ্টিগতভাবে বাতাসের রঙ কালো ৷

 

৪) মানবদেহের মন নামক বস্তুটি এ’পার (ইহলোক) ও ও’পার (পরলোক)-এই দুই পারের সংযোগ রক্ষাকারী ৷ দেহের মৃত্যু হইলেও মনের মৃত্যু নাই, এ অবিনশ্বর ৷

 

৫) প্রাণিকুলের পরিচালন পদ্ধতি ও সৃষ্টি রহস্য জানিতে হইলে পথ একটাই, মনকে স্থির করা, যা একমাত্র দেহের ভেতরকার বাতাস নিয়ন্ত্রিত করিয়াই সম্ভব হয় ৷ অন্য কোনও পথ নাই ৷ একমাত্র ক্রিয়াযোগে এটি করা সম্ভব ৷

 

৬) প্রাণীকুল, বিজ্ঞান এবং ঈশ্বর - ইহাদের মধ্যে ঈশ্বরই বড়, ইনিই সব পরমপুরুষ পরমপিতা পরব্রহ্ম, ইনি কৃষ্ণও নন কালিও নন ৷

 

৭) ঈশ্বর , কর্মফল , জন্ম – জন্মান্তরবাদ সকলই প্রত্যক্ষ অনুভূতি ও বাস্তবতার জিনিস। একমাত্র যৌগিক প্রক্রিয়ায় জ্ঞানযোগের দ্বারাই এই জিনিস উপলব্ধি ও বাস্তবে আনা এবং ব্যক্ত করা সম্ভব ৷

 

৮) Nature এর এমন এক বিশেষ গুণ আছে সেখানে একজনের যদি গঠনমূলক , সৎ ও স্বচ্ছ চিন্তা থাকে তাহা হইলে যে জিনিসটি যখন যেরূপভাবে ধরিয়ে দেওয়ার দরকার nature এর system তাহাকে ঠিক সময়ে কোন না কোনোভাবে তা ধরিয়ে দিবে ৷

 

৯) ধনদৌলত পার্থিব জগতের সম্পদ , ইন্দ্রিয় সুখ ভোগের জন্য ৷ সাধন ভজন অপার্থিব জগতের সম্পদ, মানসিক সুখ শান্তির সাথে মৃত্যুর পরের পরবর্তী জীবন গড়ে দেওয়ার জন্য ৷