আমাদের সমগ্র মনুষ্যজাতির পরামর্শদাতা পরম পূজনীয় দর্শনযোগী ভীমানান্দ (শ্রী ভীমচন্দ্র গুড়ে) মহারাজের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন

দর্শনযোগীর শিক্ষাদান -- দর্শনাচার্য রূপে

শুরু ও শেষ করেন আচার্যরূপে, ত্রিনয়ন প্রাপ্তির পর থেকে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত প্রত্যহ সন্ধ্যায় কাজের শেষে এক থেকে দুই ঘন্টা নিয়মিতভাবে শিষ্য শিষ্যা অনুরাগীদের সাথে প্রথমে শ্রী নিমাই পালের দোতলার ছাদের ঘরে, পরে শ্রী বেচারাম পালের টালি তৈরি কারখানায় দোতলার এক ছোট্ট টালির ঘরে মাসিক ১৫০.০০ টাকা ভাড়াতে এবং সবার শেষে শ্রী সমর কৃষ্ণ সাহার বাড়ীর নদীর ধারের নীচতলার এক ঘরে ৷

 

আজকের সমাজের এই বেহাল অবস্থা কাটিয়ে সমগ্র মনুষ্য জাতিকে চরম ধ্বংসের হাত হইতে রক্ষা করিবার জন্য দর্শনযোগীর ত্রিনয়ন তথা দর্শন দৃষ্টিতে ধরা পরা কথাগুলি --

 

১) চাই অর্থের সরাসরি ব্যবহারের সম্পূর্ণ বিলোপ সাধন, কিন্তু অর্থ থাকিবে কেবলমাত্র কাগজে কলমে হিসাব-নিকাশের জন্য ৷ আজকের দিনের এই ভয়াবহ বেকারত্ব, দুর্নীতি সহ সমাজ শৃঙ্খল বিঘ্ন সৃষ্টিকারী সমস্ত প্রকার অশুভ শক্তিকে নির্মূল করিবার মূল চাবিকাঠিটি পাওয়া যাইবে এখান থেকেই 

 

২) রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় ফাঁকি দিয়ে অর্থ উপার্জনের কোনও সুযোগ থাকিবে না ৷ একমাত্র ৎপাদনমুখি শ্রমের বিনিময়েই খাদ্যদ্রব্য এবং যাবতীয় সম্পদ পাওয়া যাইবে ৷ সমান যোগ্যতায় সমান ভোগ্য-সম্পদ, ইহাই হইবে আগামী-দিনে সম্পদ বিলি বণ্টনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় নীতি ৷

 

৩) এখন আমাদের খাদ্যদ্রব্য বিলাসবহুল সামগ্রীর সমস্ত কিছু টাকা পয়সার বিনিময়ে পাওয়া যায়, যদি সবাই দেখিত এই সকল কেবলমাত্র শ্রমের বিনিময়েই পাওয়া যায় তখন জনসাধারণ ঐ দিকেই মনোনিবেশ করিত বেশি করিয়া ৷ সুস্থ সমাজ গঠনে আগামীদিনে ইহাই ভাবিতে হইবে ৷

 

৪) প্রকৃতির দেওয়া কোনও সম্পদ সমগ্র মনুষ্যকুলের কেহ জন্মের সাথে নিয়ে আসেনি মৃত্যুর পর সঙ্গে লইয়া যাইবে না ৷ জন্মের আগে যেখানে হইতে যেইরূপ অবস্থায় আসিয়াছিল প্রত্যেকেই আবার মৃত্যুর পর তথায় সেইরূপ অবস্থায় ফিরিয়া যাইবে ৷ সৃষ্টিতে সবাই উলঙ্গ সম্পূর্ণ অনাবৃত দেহে জন্ম লইয়াছে ৷ কাজে - কাজেই নিজ নিজ যোগ্যতানুসারে ঐ সম্পদ সবাই ভোগ করিবার সমান অধিকারী  এ জিনিস বাস্তবে রূপায়িত করিবার জন্য দেশের সম্পদ , স্থাবর অস্থাবর যাবতীয় সম্পত্তি একই রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণাধীনে অবিলম্বে নিয়ে আসা হইবে  কোন কিছুই ব্যক্তি মালিকানায় রাখা থাকিবে না  একজনের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্ম এবং চরিত্রই হইবে তাহার একমাত্র নিজস্ব সম্পদ 

 

৫) মহাকাশের বুকে ভাসমান চন্দ্র সূর্য গ্রহ নক্ষত্র ইত্যাদির ভর, আকার, আয়তন, কার্য প্রণালী অথবা গতির মধ্যে বিভিন্নতা থাকিলেও প্রত্যেকেই নিজ নিজ কর্ম সম্পাদনে প্রকৃতির সাম্যরক্ষা (maintenance of balance) নিয়মের উপর স্থায়ীভাবে দাঁড়িয়ে আছে  আমাদের প্রতিটি মানুষের আচার-ব্যবহার, চাল-চলন, কথা-বার্তা, কাজ-কর্ম ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যাদির মধ্যে তফাৎ থাকিলেও পরস্পরের মধ্যে সামঞ্জস্য তথা ঐক্য বিধানে রাষ্ট্রীয় কাজে অনুরূপ জিনিসটিই ভাবিতে হইবে 

 

৬) আগামী দিনে মানবসমাজকে এগিয়ে দেওয়ার জন্য একদিকে থাকিবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যারে প্রেরণা যোগাবে সৃজন-মুখি কর্ম অন্যদিকে পাশে দাঁড়াবে ধর্ম ও আধ্যাত্মিকতা 

 

৭) আমাদের জাতিকে তৈরি করিতে প্রথমেই দরকার শিক্ষার, কাজেই শিক্ষা হইবে বাধ্যতামূলক  সবাই শিশুকাল হইতে শিক্ষা গ্রহণ করিতে বাধ্য থাকিবে এবং প্রত্যেককেই শিক্ষা দেওয়ার যথাযথ ব্যবস্থাও থাকিবে 

 

৮) শিক্ষায় বিশেষত: উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে একজনের প্রকৃতিগত গুণ বা স্বভাবের উপর প্রাধান্য দেওয়া হইবে ৷ শিক্ষা ও সামাজিক ব্যবস্থাপনার প্রতিটি দিক হইবে প্রকৃতির অনুকরণমুখী 

 

৯) সমাজ জীবনকে সুশৃঙ্খলভাবে ধরিয়া রাখিবার জন্য শিক্ষা ব্যবস্থায় আধ্যাত্মিক শিক্ষার প্রবর্তন করা জরুরী 

 

১০) আমাদের বহুদিনের দাবি “সকলের জন্য কাজ”- পূরণে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় নিজ নিজ যোগ্যতানুযায়ী প্রত্যেকের জন্য কাজ থাকিবে (এ' জিনিস এখনই করে দেওয়া সম্ভব) এবং প্রত্যেকেই কাজ করিতে বাধ্য থাকিবে 

 

১১) সৃষ্টির কাজে প্রত্যেকের আলাদা আলাদা গুন রহিয়াছে, কেহই ফেলনা নয়  যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে একজনের কর্ম ও সমাজ জীবনের উপর তার অবদানের উপরেই গুরুত্ব দেওয়া হইবে ৷ রাষ্ট্রের কাছে ও কাজে দৈহিক ও মানসিকভাবে সুস্থ কোনও নাগরিককে অযোগ্য বা ফেলনা হিসাবে পরিগণিত করা হইবে না 

 

১২) রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় যোগ্যতার মূল্য বা মর্যাদা থাকিবে সবার উপরে , ইহা উপেক্ষার নয়  প্রত্যেকের বিশেষত: দুর্বল ও পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর যোগ্যতা বাড়িয়ে নেওয়ার পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা দেওয়া থাকিবে, কিন্তু চাকরির ক্ষেত্রে সংরক্ষণ কাম্য নয় 

 

১৩) সমাজে মা বোনেদের মূলত: পরিবেশ গঠনের কাজে লাগানো হইবে 

 

১৪) এই কলিযুগে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইয়ের উচিৎ জীবের তরণ তারণ ১৬ নাম ৩২ অক্ষর যুক্ত 

                      "হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে,

                       হরে রাম হরে রাম, রাম রাম হরে হরে" 

এই মহামন্ত্র নীরবে জপ করা, যেহেতু প্রকৃতি, পৃথিবী এবং এদের বুকে মনুষ্যকুল-- এই তিনের সাথে মিল করে এই নাম সৃষ্টি।